Saturday, 7 September 2019

রূপসী বাংলা- রূপসী কন্যা / অনন‍্যা মণ্ডল




সবুজ ঘাসেরা মাটির মেঝে ছায়া ফেলে দাঁড়িয়ে।সূর্য‍্যি সজনে গাছের পাতার ফাঁকে উঁকি দিয়েছে সবে। প‍্যাঁজা-তুলোর মেঘ তখন আকাশে।'শরৎ' বলল-"রূপসী বাংলার বাড়ি আমার এই কটা দিন নিমন্ত্রণ।তার বারো মাসের তেরো পার্বণের অতিথি কাশফুলও।"
আমি বললাম-"সে কি গো! প‍্যাঁজাতুলোর মেঘকে করেনি নিমন্ত্রণ?"
শরৎ বলল-"তাকে আর নিমন্ত্রণ করলো কই?
সে নিজেই তো হ‍্যাংলার মতো যেচে নিমন্ত্রণ নিলো।"

       রূপসী বাংলার রাগ হল খুব। সে বলল,-"দেখো, তোমরা যদি আমার প‍্যাঁজাতুলোর মেঘর নামে খারাপ কিছু বলো,তবে আমি তোমাদের কাছ থেকে বিদায় নেব। তখন শরৎ বলল-"না গো রূপসী কন্যা,রাগ কোরো না। আমার এ কথা বলা উচিৎ হয়নি। মেঘ তো আমাদের বন্ধু!" -- এই বলে শরৎ অন্তর্ধৃত হল। পরে রইল কাশফুল। সে বেচারি হাওয়ায় হেসে-খেলে দুলছিলো কিছু আগে,শরতের চলে যাওয়ায় তার মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ল এবং তখনি সেও সেখান থেকে চলে গেল।রূপসীর ও মন খারাপ সে মেঘকে ডাকলো ও সব কথা জানালো। মেঘের ও মন খারাপ। তারপর মানবেরা দানবের রূপ নিয়ে হিংস্র পশুর মতো সমস্ত গাছ-পালা দিল কেটে। নাকি বিল্ডিং বানাবে একরাশ!! তারপর এল রাশি রাশি যানবাহন।তাদের ধোঁয়ায় প‍্যাঁজাতুলোর মেঘ গেল হারিয়ে!রূপসী কন্যার হরিণ-হরিণী গেল কোথায় হারিয়ে-তার ইয়াত্তা-ই  নেই।সবুজ ঘাসের সুগন্ধিও হাওয়া..... ! আর সেই সজনে গাছের হল অপমৃত‍্যু।তারপর সেই প‍্যাঁজাতুলোর মেঘের ঠিকানা কেউ দিতে পারল না। সেই কাশবন ও আজ আর প্রায় নেই।বারো মাসের ছয় ঋতুও উপলব্ধি করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রূপসী বাংলা আজ বন্ধুহীন;বিপর্যস্ত সে।


অনন্যা মন্ডল
বিষ্ণুপুর
উত্তর ২৪ পরগনা

1 comment: