Tuesday, 10 September 2019

কৈলাশে কান্ডকারখানা / সৌভিক রায়

অশ্বিনের মাঝামাঝি উঠিল বাজনাবাজি,পুজোর সময় এলো কাছে l মহালয় হয়েগেছে, কৈলাশ পর্বতে চূড়ান্ত ব্যাস্ততা,মা সব গুছিয়ে নিচ্ছেন l এর মধ্যেই অসুর এসে খবর দিল যে তার মাথার পরচুল টা চুরি হয়েগেছে সাথে গোফঁ টাও হাওয়া l

অসুর : মা আমি এবার যাবো কি করে?আমার  মান সন্মান যা ছিল সব গেলো ,আমি এবার যেতে পারবো না ……!

মা : ব্যাটা মাকুন্দ তোকে ছাড়া আমরা কি করে যাবো, একটা জিনিসও ঠিক করে রাখতে পারিস না!!!!!!!নে খোঁজ ???

অসুর: তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি মা পুলিশ এই ভাবে মাওবাদীও খোঁজে না আমি যে ভাবে খুঁজেছি ……

মা :তবে আর কি  হয়ে গেলো এবার আর যাওয়া হলো না l

  গনেশ কাঁদতে কাদঁতে বলল তাহলে খাওয়া টা গেলো ,লক্ষি :আমাকে যেতেই হবে আমি অলরেডি ইন্সট্রাগ্রাম এ পোস্ট. করেছি, স্বর তোর খবর কি ?আমিও তো whatsapp এ স্ট্যাটাস দিয়েছি lকার্তিক:আমি তো টুইট করেদিয়েছি সেই মহালয়ার দিনই, গণেশ !

গণেশ:  আমার তাহলে আর মা আমার বউ এর সাথেও তো একবারই দেখা হয় বছরে,আর তোমার শাড়ি গুলোর কি হবে?আর মা তোমার ল্যাহেঙ্গা টা বাবা কত জোড়াজুড়ির পর কিনে দিলো l

মা:সে বোধ কি আর আছে অনামুখটার?

অসুর :অপরাধ নিও না মা আমিও ফেসবুক এ স্টেটাস দিয়েছি !

মা :আমার আর ভালো লাগছে না চল তোদের বাপের কাছে চল ,ওটা আবার কোথায় কে জানে ……….(কৈলাশ পর্বতের চূড়াতে শিব আর নারদ )

শিব :  কি  হলো গো  গিন্নি এত রেগে কেন?

মা : বল কি করেছিস বল বাবা কে ?

অসুর: বাবা আমি সর্বসান্ত,আমার সৰ চুরি হয়েগেছে ?

আমার রাজ্যে চুরি !(সব শোনার পর বাবা বললেন)

মা: থাক আর ইংরেজ জামানার জেলার সাজতে হবে না l

 মা :জামাইষষ্ঠী নয় ,বছরে দশ বার নয়, মাত্র একবার বাপের বাড়ি যায় তোর তাও সহ্য হচ্ছে না , অপদার্থ !

নারদ এখন কি উপায়?

 নারদ :প্রভূ আমার মনে হয় কোনো গোয়েন্দা দরকার,

 শিব :কিন্তু সবাই কে তো বলা যাবে না তোমার সন্ধানে কেউ আছে যে খবর ছাড়াবে না? 

নারদ : হমমম,মায়ের বাপের বাড়ির দেশের তো দুজন আছে 

শিব:কে কে?

নারদ :কেন?ফেলু আর বোম্যকেশবাবু!

শিব: ও কত জানো তূমি!ডাক পাঠাও ওদের l

(ফেলুদা আর Mr বক্সী এলেন )

শিব :কই আসুন আসুন, দেবর্ষি সব বলেছেন আশা করি,

ফেলুদা: উনি তো সবই বলেন কতটা দুধ আর কত টা জল সেজন্য সংশয় আছে (সাথে সাথে মিঃবক্সী ফেলুর কনুই তে গুতো, আ কি হচ্ছে কী)

শিব :না আমি বলছি তার আগে একটু কফি চলবে তো ….ওই দার্জিলিঙে আর যাই না কখন গুলি করে দেবে, তাই এখানে চা পাবে না lলাস্ট ইয়ার ওয়ার্ল্ডকাপ দেখতে ব্রাজিল গিয়েছিলাম প্রচুর কফি নিয়েএসেছি ,কফি খাও l

ফেলুদা : চুমুক দিতে দিতে বলুন, আপনি বলুন......

(সব শুনে ফেলুদা )দুটো প্রশ্ন আছে আমাদের ডাকলেন কেন ?এটা আপনি নিজেও তো পারতেন?

শিব: ধূমপান করে শরীর গেছে আর পারি না   আমি হাপ ধরে যায়, আর?

ফেলু:পেমেন্ট এর কি বন্দোবস্তো?

শিব :টাকা তো বিশেষ নেই আমার আমি তো ফকির ,তবে ওই পুজো উদ্বোধনে যা পাবো তোমাদের দেব চিন্তা নেই , নেহাত কম হবে না !

ফেলু:ঠিক আছে ,তবে চেক বা ক্যাশ দেবেন না, পেটিএম করবেন l

(বাবা আচ্ছা বলে চলে গেলেন)

ব্যোমকেশ:ফেলু কত দিন পর দেখা চল একটু তাস খেলি,কেস নিয়ে পরে ভাবছি, চলো এই বাঘছাল টার উপর বসি,

দে দে একটা চারমিনারর দে দেখি ,আচ্ছা তপেস আর লালু এলো না যে,?

(ফেলু দা তাস দিতে দিতে )

ফেলু :লালুদার এখন বই প্রকাশিত হয়েছে মহালয় তে সব রিয়ালিটি শো গুলোতে যাচ্ছে প্রমোশন এর জন্য বই এর আর ভালো বিক্রি নেই এখন কেউ বই কেনে না সব পি ডি এফ পড়ে আর তোপসে এখন পার্টির হোলটাইমার lতুমিও তো একাই এলে........

 ব্যোমকেশ:আর বলিস না, অজিত এখন বুদ্ধিজীবী,ওর আর সময় হয় না,সব চ্যানেলে চ্যানেলে যেতে হয়তো,তারপর মোমবাতি মিছিল আছে lখোকার আবার গ্রুপঃ ডি পরীক্ষা তাই সত্যও আসতে পারলো না,কেস টার কি করা যায় বলতো?

ফেলু:অসুরটা কে ডাকি একবার?

ব্যোমকেশ:ডাকবি তো ডাক.......

(গলবস্ত্র হয়ে এলেন অসুর)  

 ফেলু :আসুন মি: মহিষাসুর,বলুন শেষ কখন দেখেছিলেন পরচুলা?

 মিঃ মহিষাসুর :কাল সন্ধ্যায়, তার পর ঘুমিয়েপড়লাম আজ সকালে উঠেদেখলাম নেই l

 ফেলু : রোজ সন্ধ্যায় আপনি শুয়ে পড়েন ?

 মিঃ মহিষাসুর :না এমনিতে,রাত 10টায় টি ভি দেখে শুয়ে পড়ি,

 ফেলু :কী দেখেন?

 মিঃ মহিষাসুর :বাংলা সিরিয়ালল, 

  মিঃ বক্সী :তা সেদিন দেখেন নি ?

 মিঃ মহিষাসুর :না হঠাৎ এমন ঘুম পেল

 মিঃ বক্সী:সন্ধ্যায় আপনি কি করছিলেন?

 মিঃ মহিষাসুর :ইয়ে মানে !!!!

 ফেলু :কী বলুন?

 মিঃ মহিষাসুর :বলছি বলছি ক্যানডি ক্রাশ খেলি ফোনকিন্তু  কাল নন্দী এসে কী একটা খেলা দেখালো সেটা খেললাম l

ফেলু :আচ্ছা নন্দী বাবু কোথায় ছিলেন ?

 মিঃ মহিষাসুর : ও আর ভিড়িঙ্গি রোজ তাস  খেলে ওই সময়,এই কৈলাশেই

 ফেলু :আর কি কিছু বললো ওরা?

 মি:  মহিষাসুর :না শুধু  ওই কি একটা যেন, ও লিচিড্রিংক খেতে দিলো 

ফেলু :আপনি খেয়েছিলেন?তার পর ?

মিঃ মহিষাসুর :খেলাম  আর জানি না তারপরই আমার ঘুম পেল l

  ফেলু :ঠিক আছে আপনি যেতে পারেন l

(বক্সী বাবু বললেন) যেটা  খেলেন সেই শিশি টা কোথায়?

  মিঃ মহিষাসুর :কী জানি স্বচ্ছসর্গ অভিযানের গাড়ি নিয়ে গেছে বোধ হয় l

মিঃ বক্সী :কোথায় ফেলা হয়ে ওগুলো?

মিঃ মহিষাসুর:কৈলাশ পর্বতের নীচে,

আপনারা দেখুন আমার টা একটু l

 মিঃ বক্সী:চিন্তা করবেন না দেখছি আমরা!

নন্দী বাবু কে পাঠিয়েদিন,(ফেলু এই দিক টা দেখ আমি একটু ঘুরে আসি)

(এর মধ্যে নন্দী এসে দাঁড়ালো )

ফেলু:কাল সন্ধ্যায় আপনি কি করছিলেন?

 নন্দী:PUBG খেলছিলাম  l

ফেলু :রোজ তাই করেন ?

নন্দী :হু,

ফেলু :অসুর বাবু কে কাল খেলা টা দেখিয়াছিলেন?

নন্দী ☹ ঢোক গিলে ) হু

ফেলু:তখন কাটা বাজে ?

নন্দী: 10টা.....হবে

ফেলু :আপনি কি কিছু খাচ্ছিলেন?

নন্দী: না (ঘাম  মুচতে মুচতে)

ফেলু :ঠিক আছে আপনি যেতে পারেন l

 ব্যোমকেশ বাবুও এসে পড়লেন ,

বল ফেলু কি হলো সব শুনে বললো চল  মহাদেব বাবুর কাছে যাই কেস solved 

সে কী !চল না ওখানে গিয়ে  সব শুনিস .........

 মিঃ বক্সী:নমস্কার বাবা !  কেস সল্ভড !

শিব :  সে কী এর মধ্যেই!

ধন্ন্যি ধন্ন্যি বক্সী বাবু  ধন্ন্যি ফেলু 

মিঃ বক্সী :আপনি সবাই কে ডাকুন  মানে যারা কৈলাশে থাকে আর কি !

নন্দী ভিড়িঙ্গি  মা আর যারা সব,(সবাই চলে এলো)

আমি শুরু করছি খুব মন দিয়ে শুনবেন,

গত  কাল কৈলাশ থেকে  তিন টি জিনিস চুরি হয়েছে 

এক  অসুরের গোঁফ আর পরচুলা

শিব :আর কি কি ?

মিঃ বক্সী:ব্যস্ত হবেন না বাবা,

আপনাদের বাজার হয় বাজার কৈলাশ থেকে  ওই দোকানের 3টি লিচি ড্রিংক এর বোতল চুরি হয়েছে ,কৈলাশ থানায় তার FIR রয়েছে lপরশু সকালে ওখানে ভিড়িঙ্গি গিয়েছিলো  মার মেক আপ এর জিনিস আনতে

  ভিড়িঙ্গি :তাতে কি প্রমান  হয়ে ব্যোমকেশবাবু !!!!!!

মিঃ বক্সী:কিছু না কিন্তু ওদের সিসিটিভি কে আপনি কি বলবেন আপনি জানেন l

আপনাদে ডাস্টবিনে আমি 3টি শিশি  পাই আর আমি ওই  শিশিগুলো  lab এ টেস্ট এর জন্য পাঠাই আর তাতে বলছে ওর মধ্যে একটিতে ঘুমের ওষুধ মেশানো হয়েছিলো l

আমি নারোদ বাবুর সাথে কথা বলে জেনেছি আপনি রোজ একটা করে ট্যাবলেট খান রাতে শুতে যাবার আগে l ওই দিন নতুন ওষুধের পাতা আনা হয়,কিন্তু এখন একবার দেখুন পাতাতে মাত্র একটি ট্যাবলেট রয়েছে l

বাকি টা ফেলু বল,

 ফেলু :আমাদের মনে হয় মহিষাসুর কে PUBG খেলায় ব্যস্ত রেখে তাকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবে তার জিনিস চুরি করা হয়েছে এবং এই কর্ম টি করছেন নন্দী ও ভিড়িঙ্গি বাবু,বার বার নন্দীর নাম আসছিল তাকে জেরা করে জানতে পারি সব ভুল বলছেন আর বাকি টা তো বক্সী দা বলেই দিলেন l

শিব :কী! নন্দী ভিড়িঙ্গি!!! দারা তোদের ভস্ম করে দিচ্ছি l

ফেলু :না না বাবা মারবেন না ,

(ফেলু এগিয়ে গিয়ে)

 ফেলু :ওদের আপনি মারবেন না, আইন নিজের হাতে নেবেন না l

আর শুনি ওরা কেন এটা করল?

 নন্দী :বাবা ওই অসুর প্রতিবার এসে আমাদের গল্প করে এই খেলাম ওই খেলাম

 ঘুড়লাম,কিনলাম,নতুন জামা পড়লাম,আমার তো কিছুই পাইনা সারাবছর তাই ভাবলাম এবার যদি ওর যাওয়া টা আটকানো যায়?

এই নিন বাবা আমরাই লুকিয়ে রেখে ছিলাম (পরচুলা আর গোফ আসুর এর হাতে handover করে দিল)

মা: আ হা রে বাছারা আমার,তুমি ওদের ক্ষমা করে দাও l

আমি ওদের এবার নিয়ে যাবো

কিন্তু সেটা কি করে হবে মা,?(গনেশ  )

 মা :বাবা ফেলু তুমি কিছু পারবে না করতে 

ফেলু :  দেখি এখনতো থিম পুজো যদি ওদের নেওয়া যায় আমি ফিরে রাজনী সেন রোড সার্বজনীন এর সাথে কথা বলে আপনাদের ইমেইল করে দিচ্ছছি l

শিব :

অনেক করলে বাবা আমাদের জন্য ফেলু,অনেক ধন্যবাদ l

(বক্সী কনুই এর গুতো মেরে,ইমোশন এ আবার টাকা টা ভুলে  যাস না )

ফেলু: তাহলে বাবা আমাদের টা?আমার  এবার এগোবো .....

শিব :আচ্ছা,  আবার এসো কিন্তু!

(বক্সী খঃ খঃক্ষ করে কাস্তে আরম্ভ করলো )

  শিব :আ হা রে বাছার ঠান্ডা লেগেছে কৈলাশে ঘুড়ে ঘুড়ে,এই নাও syrup টা নাও 

মিঃ বক্সী: না না.......!

 শিব :অরে নাও নাও এত উপকার করলে এটার দাম দিতে হবে না ,

ফেলু: আমাদের পারিশ্রমিক কি হবে ? 

শিব :ও এই ব্যাপার., পাঠিয়ে দিও অডিট হবে,বাজেট পাশ হবে তার পর বিল ছাড়া হবে  l একটু সময় লাগবে ওই সামনের বছর পুজোর পর ধরো l

ফেলু:  সে  কী !   

শিব :হ্যা এটাই আমাদের নিয়ম l  (নারদ : প্রভু আমাদের বাজেট এ তো অনুসন্ধান খাতে বরাদ্দ নেই, চুপ চুপ একদম চুপ l)

-----------

Sunday, 8 September 2019

টান / ময়ূখ হালদার



পুজোর আর মাত্র হপ্তাখানেক বাকি। কলমবাগানের সেন  বাড়িতে এই প্রথম দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছে। সেই উপলক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে ঠাকুর দালান, বাড়ির ঈশান কোণে। সেখানে জোরকদমে চলছে প্রতিমা গড়ার কাজ।
জমিদার রাধাকান্ত সেনের ছেলে শ্রীকান্ত রেলের বড় অফিসার ছিলেন। সাহেবদের হুকুম মেনে চলা তাঁর ধাতে সইলো না। চাকরি ছেড়ে নিজস্ব কোম্পানি খুললেন। তাঁর সাধের টিম্বার কোম্পানিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন দুই ছেলে অনন্ত আর দিগন্ত। এঁরাই বর্তমানে সেন বাড়ির কর্তা। বড়ভাই অনন্ত-র ছেলে রূপু আর ছোটভাই দিগন্ত-র মেয়ে পুপু-হরিহর আত্মা।
রূপু ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে একদৃষ্টে চেয়ে আছে ঠাকুর দালানের দিকে। সে একবারের জন্যও ওদিকে পা বাড়ায় নি। তার অভিধানে একমাত্র ইষ্টদেব-কার্ল মার্কস। চোখ সরিয়ে নিল রূপু। শান বাঁধানো পুকুরের জলে পড়ন্ত সূর্যের আলো ঠিকরে পড়ছে। এ যেন তার সাধের রঙ্গোলি। মন ভালো হয়ে যায় তার। পাশের জামগাছ থেকে কে যেন হঠাৎ বলে উঠল-বউ কথা কও! একটা সরু ডালে বসে দুটো শালিক ক্যাঁচরম্যাচর শব্দ করে ঘাড় বেঁকিয়ে রূপুকে স্বাগত জানালো। সে আপন মনে হেসে ওঠে। আলো-আঁধারের লুকোচুরি খেলার মধ্যে দিয়ে সন্ধ্যা নামতে শুরু করেছে। বাতাসে ভেসে আসছে গুড়ের নাড়ুর গন্ধ। নিশ্চয়ই মা-কাকিমণিরা রান্নাঘরে নাড়ু পাকাতে বসেছে। জিভে জল চলে এল রূপুর। জামার পকেট থেকে সিগারেট এবং লাইটার বের করতে গিয়ে হতাশ হলো সে। এমন সময় সে শুনতে পেল,
-দাদা! এই দাদা...কোথায় গেলি? এদিকে আয় দেখে যা...।
সকাল থেকেই চাকর-বাকরদের আনাগোনা শুরু হয়েছে পুপুর ঘরে। নরক! নরক! এ বাড়িতে কোনো প্রাইভেসি আছে? নামেই ওর ঘর। যখন তখন হুটহাট করে লোকজন ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে। কেউ ঘর মুছছে, কেউ বা চেয়ার-টেবিল সরাচ্ছে, আবার কেউ এসে ঘরের মধ্যে সুগন্ধি ছড়িয়ে যাচ্ছে। দেখেশুনে মনে হচ্ছে যেন উৎসব উৎসব ভাব। পুপু রাতে পাতলা একটা নাইটি পরে শুয়েছিল। এখনও সেটাই ওর পরনে রয়েছে। অথচ লোকগুলোর সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই। তারা তাদের কাজ করে চলেছে আপন মনে। অস্বস্তি হচ্ছিল পুপুর।
-মা! ও মা...এদিকে এসো তো একবার।
কেউ কোনো জবাব দেয় না। কিছুক্ষণ পরে খাবার নিয়ে ঘরে ঢুকলেন শর্মিলা। পুপু ঠোঁট নাড়ে,
-মা, বাড়িতে কি আমার কোনো প্রাইভেসি...
-ওসব কথা থাক। এখন দয়া করে খেয়ে আমাকে উদ্ধার করো।
ভাতের থালাটা টেবিলের ওপর রেখে তিনি চলে গেলেন।  পুপুর খেতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু না খেলে মাথা ঘোরে। অতৃপ্তি নিয়েও সে ভাত খায়। খাওয়ার পর বড্ড ঘুম পায়। সে ঘুমিয়ে পড়ে। পুপুর ঘুম ভাঙলো যখন, তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। লাইট জ্বলছে। ঘরের দেওয়ালে রং করা হয়েছে। পুপুর হঠাৎ ছবি আঁকার ইচ্ছা হলো। সে ব্যাগ থেকে রং-ব্রাশ নিয়ে ছবি আঁকতে শুরু করল। এক সময় দেওয়াল ভরে গেল একটা ডিঙি নৌকা, নদী আর ডাঙ্গায় বসে থাকা দুটো ছেলেমেয়েতে! পুপুর খুউব ভলো লাগছিল। সে উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে ওঠে,
-দাদা! এই দাদা...কোথায় গেলি? এদিকে আয় দেখে যা...।
-ওয়াও! ইট'স রিয়েলি গ্রেট। খুউব সুন্দর হয়েছে।
রূপু, পুপুর পিঠে হাত রাখে। পুপুর চোখ উজ্জ্বল হয়।
-তোর পছন্দ হয়েছে? আমি জানতাম তুই লাইক করবিই। এই দ্যাখ...এটা তুই আর ওটা আমি।
রূপু বোনের মুখটা দুহাতে ধরে কপালে চুমু খায়!
-তোকে খুউব মিষ্টি লাগছে।
-তোকেও।
-ওষুধ খেয়েছিস?
এবার পুপু রূপুর কাছ থেকে ছিটকে সরে আসে।
-ওষুধ কেন খাবো? আমি তো সুস্থ। দাদা, তুইও তো ওদের মতো কথা বলছিস!
-জনতাম তুই ওষুধ খাবি না। এদিকে আয়।
সে শিশি থেকে এক ঢাকনি তরল ঢালল।
-এটা খেয়ে নে বুনু।
পুপু একভাবে তাকিয়ে থাকে দাদার মুখের দিকে। ওর চুলগুলো এলোমেলো। চোখের নিচে কালি। হঠাৎ হেসে ওঠে।
-ঠিক আছে। তুই বলছিস যখন...
এগিয়ে এসে ওষুধ খায়। তারপর আচমকা ঝরঝর করে কেঁদে ফেলে। দু'হাতে জাপটে ধরে রূপুকে।
-তুই খু-উ-ব ভালো! কেন তুই আমাকে এত ভালোবাসিস? কেউ তো আমাকে চায় না। তবু তুই...
-চুপ! একদম চুপ। এখন এসব কথা নয়। ফের কাঁদবি তো আমি চলে যাবো।
-না! জানিস...আমার এখানে থাকতে একদম ভলো লাগে না। তুই বিশ্বাস কর আমি হাঁপিয়ে উঠেছি। আমি বাড়ি থেকে বেরোতে পারিনা। সারাদিন ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে চায় সবাই...ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয় চুপি চুপি...।
রূপু দীর্ঘশ্বাস ফেলে। করুণ চোখে তাকায় বোনের দিকে।
-আমি জানি বুনু। তোকে কেউ বুঝল না। আমি তো চেষ্টা করেছিলাম বাট...আই অ্যাম হেল্পলেস ডিয়ার।
রূপু জানলা দিয়ে চোখ রাখে বাইরে। উঠোনে একদল ঢাকি জড়ো হয়েছে বায়নার জন্য। ঢাকের কাঠিতে একটার পর একটা বোল ছন্দ তৈরি করছে। মনটা উদাস হয়ে আসে।
-দাদা! পুজো এসে গেল অথচ কোনো ফিল-ই হচ্ছে না! এমনকি বাড়িতে পুজো হচ্ছে, তাও কিচ্ছু ভলো লাগছে না। তোর মনে আছে আমরা ছোটবেলায় পুজোর সময় কী করতাম?
রূপু, পুপুর চোখে চোখ রাখে। পুপু ফিরে যায় অতীতের   ফেলে আসা গলিতে। নতুন জামা-কাপড়, প্যাণ্ডেলে হুড়োহুড়ি, নদীর ধারের সেই কাশবন, বাতাসে বাজির গন্ধ, চরণামৃত, হোমাগ্নি, পুষ্পাঞ্জলি, মেলা, ফুচকা, ঘুড়ি-ভোকাট্টা!
-দাদা! আই মিস দোজ ডেইজ ব্যাডলি!...আই ওয়ান্ট দোজ ডেইজ ব্যাক। চুপ করে আছিস কেন? বল...পারবি না ফিরিয়ে দিতে?
রূপু দৃষ্টি সরিয়ে নেয়, বাইরে তাকায়।
-লুক অ্যাট মি! আমার চোখে চোখ রেখে বল, পারবি না ফিরিয়ে দিতে?
রূপু ঘোরে। ওর চোখদুটো ভিজে। অস্ফুটে ঠোঁট নাড়ল,
-পারব। আয়...চলে আয় আমার সঙ্গে।
নিচে মহড়া চলছে বাজনার। সেন বাড়ির কর্তারা ঝালিয়ে নিচ্ছেন ঢাকিদের দক্ষতা। ঢাকের শব্দের আড়ালে দুই ভাই-বোন চুপিসারে বেরিয়ে এল বারান্দায়। এগিয়ে গেল ব্যালকনির দিকে।
ধূপ-ধুনো নিয়ে দোতলায় উঠে এলেন শর্মিলা। বাতাসে ধুনোর গন্ধ মিশে তৈরি একটা অদ্ভুত আবেশ শরীর-মনকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। বাদুড়ের মতো ঝুলে থাকতে থাকতে ঝুপ করে সন্ধ্যা নেমে গেল। নাড়ুর গুড় জাল দিতে গিয়ে দেরি হয়ে গেছে শর্মিলার। তিনি মেয়ের ঘরে ঢুকে অবাক হলেন। পশ্চিমের দেওয়ালজুড়ে ছবি। আজই রং করা হয়েছে। স্বামী জানলে আর দেখতে হবে না! পুপুর এই খামখেয়ালিপনার জবাব তো তাঁকেই দিতে হয়। কর্তারা তো মেয়েটাকে আসাইলামে পাঠাতে চেয়েছিলেন। শুধুমাত্র তাঁর জেদেই মেয়েকে বাড়িতে রাখা হয়েছে। হাজার হোক মেয়ে তো। কাছ ছাড়া করতে মন চায় না। এইরকম কত ঘটনা ঘটে পুপুকে নিয়ে। সবদিক সামলাতে সামলাতে শর্মিলা জেরবার হয়ে গেছেন। তিনি এই মুহূর্তে পুপুকে ঘরের মধ্যে দেখতে পেলেন না। হয়ত বাথরুমে গেছে। চিন্তার মেঘ সরিয়ে তিনি ধুনোর ধোঁয়া ছড়িয়ে একে একে সমস্ত দেব-দেবীর ছবিতে ধূপ দেখালেন। এবং শেষে তিনি রূপুর ছবির সামনে দাঁড়ালেন। রূপু হাসছে। কপালে চন্দনের ফোঁটা, ছবির ফ্রেমে মালা। আজ রূপুর জন্মদিন। বেঁচে থাকলে তার পঁচিশ বছর পূর্ণ হতো!
দু-বছর আগে খড়গপুর আই. আই. টি. থেকে ছুটিতে বাড়ি ফেরার সময় সিগন্যাল পোস্টে বারি খেয়ে ট্রেন থেকে ছিটকে পড়েছিল রূপু। মাথার খুলিটা দু-টুকরো হয়ে গিয়েছিল। পুপু এই ধাক্কা সহ্য করতে পারেনি। সে মানতেই চায় না রূপু নেই। পুপুর বি. এ. শেষ হলো না। এখন সে উন্মাদ!
ভাবনায় ছেদ পড়ল শর্মিলার। বাইরে থেকে কাদের চিৎকার যেন ভেসে আসছে! ঢাকের শব্দও থেমে গেছে। হঠাৎ-ই তাঁর বুকটা ধড়াস করে উঠল! তিনি পড়িমরি করে ছুটলেন ব্যালকনির দিকে। ঈষৎ ঝুঁকে আবছা আলোতে দেখলেন-উঠোনে ভিড় জমে গেছে! মাঝখানটা ফাঁকা! পুপু পড়ে আছে উপুড় হয়ে। মাথাটা রক্তে ভেসে যাচ্ছে! শর্মিলার শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল! মাথাটা ঝিমঝিম করতে লাগলো। ক্রমশ চোখের সামনেটা অন্ধকার হয়ে এল।
                             ---------------

Saturday, 7 September 2019

রূপসী বাংলা- রূপসী কন্যা / অনন‍্যা মণ্ডল




সবুজ ঘাসেরা মাটির মেঝে ছায়া ফেলে দাঁড়িয়ে।সূর্য‍্যি সজনে গাছের পাতার ফাঁকে উঁকি দিয়েছে সবে। প‍্যাঁজা-তুলোর মেঘ তখন আকাশে।'শরৎ' বলল-"রূপসী বাংলার বাড়ি আমার এই কটা দিন নিমন্ত্রণ।তার বারো মাসের তেরো পার্বণের অতিথি কাশফুলও।"
আমি বললাম-"সে কি গো! প‍্যাঁজাতুলোর মেঘকে করেনি নিমন্ত্রণ?"
শরৎ বলল-"তাকে আর নিমন্ত্রণ করলো কই?
সে নিজেই তো হ‍্যাংলার মতো যেচে নিমন্ত্রণ নিলো।"

       রূপসী বাংলার রাগ হল খুব। সে বলল,-"দেখো, তোমরা যদি আমার প‍্যাঁজাতুলোর মেঘর নামে খারাপ কিছু বলো,তবে আমি তোমাদের কাছ থেকে বিদায় নেব। তখন শরৎ বলল-"না গো রূপসী কন্যা,রাগ কোরো না। আমার এ কথা বলা উচিৎ হয়নি। মেঘ তো আমাদের বন্ধু!" -- এই বলে শরৎ অন্তর্ধৃত হল। পরে রইল কাশফুল। সে বেচারি হাওয়ায় হেসে-খেলে দুলছিলো কিছু আগে,শরতের চলে যাওয়ায় তার মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ল এবং তখনি সেও সেখান থেকে চলে গেল।রূপসীর ও মন খারাপ সে মেঘকে ডাকলো ও সব কথা জানালো। মেঘের ও মন খারাপ। তারপর মানবেরা দানবের রূপ নিয়ে হিংস্র পশুর মতো সমস্ত গাছ-পালা দিল কেটে। নাকি বিল্ডিং বানাবে একরাশ!! তারপর এল রাশি রাশি যানবাহন।তাদের ধোঁয়ায় প‍্যাঁজাতুলোর মেঘ গেল হারিয়ে!রূপসী কন্যার হরিণ-হরিণী গেল কোথায় হারিয়ে-তার ইয়াত্তা-ই  নেই।সবুজ ঘাসের সুগন্ধিও হাওয়া..... ! আর সেই সজনে গাছের হল অপমৃত‍্যু।তারপর সেই প‍্যাঁজাতুলোর মেঘের ঠিকানা কেউ দিতে পারল না। সেই কাশবন ও আজ আর প্রায় নেই।বারো মাসের ছয় ঋতুও উপলব্ধি করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রূপসী বাংলা আজ বন্ধুহীন;বিপর্যস্ত সে।


অনন্যা মন্ডল
বিষ্ণুপুর
উত্তর ২৪ পরগনা

Friday, 6 September 2019

না বলা কথা / প্রদীপ গুপ্ত






কিছু বলো, 
কিছু তো না হয় বলো! 
এই যে নিরন্তর ভেসে চলা, 
নদীর ছলাৎ ছলাৎ সুরের মাধুকরী 
এই যে পানকৌড়ি ডানায় লেগে থাকা
সূর্যাস্তের রঙ, 
কালো মেঘের বুকে সাদা পালের গান 
পরাণ মাঝির ডাক -- ভালোবেসে কে যাবিরে আয় --
বেলা বয়ে যায় -- ওপারে আঁধার নামে বুঝিইইই --

কোথায় আঁধার! 
ওই যে ধবল ডানার বক 
ওর সাথে ভয়ানক বন্ধুত্ব ছিলো 
তখন সবে ঘুম থেকে চোখ মেলেছে নবারুণ। 
আমিও কলমীর ভেলায় ভেসে 
ফড়িঙের লেজে সুতো বেঁধে
আকাশে ওড়াতাম। 

বেলা যায় কেন? মাঝি? 
ওকে ধরে রাখো। সে ধবল বকের ডানায় 
চিঠি বেঁধে দিয়েছে যে প্রেম।

কিছু বলো, 
কিছু তো না হয় বলো, 
জলের বুকে ভাসিও না কথা। 
বেলা যে যায় -- ওকে ধরে রাখো -
যাওয়ার আগে শুনে যেতে চাই
তুমি ভালোবেসেছিলে।

Thursday, 5 September 2019

নীল ব্যালকনি / ময়ূখ হালদার


নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘের টুকরোগুলো পেটকাটি-চাঁদিয়ালের মতো উড়তে উড়তে, শেষমেশ গোঁত্তা খেয়ে আরব সাগরের জলে প'ড়ে, মিলিয়ে যাচ্ছে দিগন্তরেখায়। চকিতে চোখের সামনে ভেসে উঠল ছেলেবেলার মাঠ, বিশ্বকর্মা পুজো, ঘুড়ি-লাটাই আরও কতো মিষ্টি মুহূর্ত। নীল সাগর, সবুজ মাঠ, লাল সূর্য-সবকিছু একাকার হয়ে ঘোর লাগায় চোখে, মনে জাগায় শিহরণ।

-কী ভাবছিস আনমনে?
আচমকা ঘোর কাটে অনুমিতার। রফিক এসে দাঁড়িয়েছে ওর পাশে। ও রফিককে ইশারায় বাইরেটা দেখায়।
-ওয়াও! আর্চিস গ্যালারি...।
রফিক স্থাণুর মতো দাঁড়িয়ে থাকে কাচের জানলার ধারে। অনুমিতা রফিকের হাত ধরে, চোখ রাখে বাইরে। নীরবতার কয়েক পল কাটে দেওয়াল ঘড়ির টিক টিক শব্দে। রফিক উদাত্ত কণ্ঠে জয় গোস্বামীর কবিতা ধরে।

-"আমি যখন ছোট ছিলাম
খেলতে যেতাম মেঘের দলে
একদিন এক মেঘবালিকা
প্রশ্ন করল কৌতূহলে"

অনুমিতা সঙ্গত করে।

-"এই ছেলেটা 
          নাম কী রে তোর?"

-"আমি বললাম,
               ফুসমন্তর!
মেঘবালিকা রেগেই আগুন,"

  -"মিথ্যে কথা!
           নাম কি এমন হয় কখনও?"

-"হোয়াটস দেয়ার ইন দ্য নেম?" নামে কী যায়-আসে!

অনুমিতা উচ্ছ্বসিত, 
-এটা কিন্তু আউট অব দ্য বক্স।
-কথাটা শাশ্বত। তবু আজকের দিনে দাঁড়িয়ে শেক্সপিয়র কি একথা লিখতে পারতেন? 
-মানে? অনুমিতা ভ্রূ নাচায়।
-মানেটা খুব পরিস্কার অনু। বর্তমান পৃথিবীতে "রফিক" নামটাই সংশয়ের জন্য যথেষ্ট নয় কি? যে কোনও মুহূর্তে নামের পাশে ব'সে যাবে আই এস আই এস! অর্থাৎ জুটে যাবে জঙ্গি তকমা!

অনুমিতা কোনও উত্তর দিতে পারে না। অদ্ভুত নিস্তব্ধতায়   ছেয়ে যায় ঘর।

-লুক মাই বিলাভেড রোজ, তোর আর আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ কী জানিস? আমার নাম! এই যন্ত্রণা সারাটা জীবন কুরে কুরে খাবে আমাদের।

অনুমিতা রফিকের হাত চেপে ধরে।

-স্টপ ইট রফি। প্লিজ শাট ইওর মাউথ আপ!

রফিক হাসে। দু'হাতে জড়িয়ে ধরে অনুমিতাকে।

-ফর গডস সেক...হোল্ড ইওর টাঙ অ্যান্ড লেট মি লভ!

সে অনুর কানে কানে বলে।

-চাল তোলো গো মাসিপিসি লালগোলা-বনগাঁয়...
-ধ্যাৎ! তুই একটা যা তা। 


গোয়ার সন্ধ্যা বড়ো মায়াবী। এল ই ডি, এল সি ডি-র ভিড়ে ঠাসাঠাসি গ্লো-শাইন, বারের ভেতর থেকে ছিটকে আসা ওয়েস্টার্ন মিউজিক, বিদেশিদের ইভনিং ওয়াক, ঝাঁ চকচকে চওড়া রাস্তা কিম্বা সি ব্যাংক- সবেতেই একটা ফেস্টিভ মুড আছে। রফিক আপন মনে প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করে গুনগুন করতে থাকে।

-ভালোবাসায় আলো আশায় তোমাকে চাই...এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই...

কিন্তু চাইলেই তো আর পাওয়া যায় না! যেমন এই মুহূর্তে মনে পড়ল গোয়ার রাস্তায় প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধ। নিয়ম বড়ো বালাই। হাঁটতে হাঁটতে ও আড়চোখে অনুমিতাকে দেখল। চোখাচোখি হতেই হাসি ফিরিয়ে দিল। ওর আর অনুর মাঝেও নিয়মের চোখ-রাঙানি! চাইলেই তো আর লাল গোলাপ পাওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত অফ শপ থেকে ভদকা কিনল রফিক। অনুমিতা খেল পানিপুরি। তারপর রেস্তোরাঁ থেকে রুমালি রুটি আর চিকেন টিক্কা কিনে ওরা পা বাড়াল কোলভা বিচ রিসর্টের দিকে।

-রফি, ঐ দ্যাখ ফুল-মুন! আজ পূর্ণিমা রে...তব নাম লয়ে চন্দ্র তারা অসীম শূন্যে ধায়িছে...। 

গাইতে গাইতে আবেগে ভেসে যায় অনুমিতা। রফিক হাতের পেগটা শেষ ক'রে অনুর দিকে তাকায়। ওর চোখ দুটো চকচক ক'রে ওঠে।

-পূর্ণিমার চাঁদ...পূর্ণিমার চাঁদ আমার হাতের মুঠোয়! কে যেন বলেছিল ঝলসানো রুটি...বোগাস! এ কী! তোর গ্লাসটা তো ফাঁকা...দাঁড়া...

রফি ভদকা ঢালে অনুমিতার গ্লাসে। এগিয়ে যায় ওর কাছে।

-নে ধর।
-থ্যাংক ইউ!

অনু হাসে। হাত বাড়িয়ে তুলে নেয় গ্লাস। আলতো চুমুক দেয়। হাই তোলে।

-রফি! তুই খু-উ-ব ভালো...এই! আমার অনারে একটা কবিতা শোনাবি? বাট, অন্যের কবিতা না। একেবারে ওরিজিনাল রফিক আসলামি চাই।

রফিক জানলায় চোখ রাখে। হারিয়ে যায় ভাবনার চোরাস্রোতে।

-চাঁদ কথা দিয়েছিল আমার ঘরে আসবে 
আজও আসেনি সে।
চাঁদ বলেছিল আমায় ভালোবাসবে 
তবু ভালোবসেনি যে!
বুকে আমলাশোল ছুটে ছুটে মরি 
দ্বীপ থেকে দ্বীপে... 
আজ গ্যালাক্সি কাল মিল্কিওয়ে ধরি 
জন থেকে জনান্তিকে!

অনু রফিকের কাঁধে মাথা রাখে। 

-অ-সা-ধা-র-ণ! নাম কী হতে পারে?
-কাস্ট আওয়ে।
-বাহ, চমৎকার। আমরা প্রায় সকলেই জীবনের কোনো না কোনো দিক থেকে থ্রোন আওয়ে। তাই না রফি?

রফিক অনুর চোখে চোখ রাখে। অনু ব'লে চলে।

-এই যেমন আমি, অনুমিতা চ্যাটার্জি-আমাকেই দ্যাখ না! একটা চনমনে চিরহরিৎ গাছকে কী অবলীলায় নিয়মের কাঁটাতারে বেঁধে দেওয়া হলো, অনুষ্ঠান ক'রে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ভূত-ভোজনের মধ্যে দিয়ে! আর আমি-লড়াই ক'রে, সেবা ক'রে, ফল দিয়ে সবাইকে বাঁচিয়ে নিজে মরছি তিলে তিলে। আমার স্বপ্ন, ভালোবাসা, লক্ষ্য-সবটাই কি "দাস ক্যাপিটাল"? প্রতিদিন একটু একটু ক'রে "রক্তকরবী"র অংশ হয়ে উঠছি। হাঁপিয়ে উঠছি সিস্টেমের জাঁতাকলে সহবাসে শীৎকারে! তবু অশান্ত বুকে খুঁজছি রঞ্জনকে। এখানে নন্দিনীরই প্রাণের বড়ো আকাল। এ অরাজক সমাজ সংসার আমার কাছে ঘোর নষ্টনীড়! এই রকম মাৎস্যন্যায়ের মাঝে তুই এলি অভাগীর জীবনে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে। তুই আমাকে ফিরিয়ে দিস না রঞ্জন! আমাকে নিয়ে উল্টেপাল্টে খেল... I বাঁচা আমায়...আমি মরব, তোর বুকে মাথা রেখে...

একটা বড় হাই তোলে অনু। ওর চোখদুটো ইতিমধ্যে লাল হয়ে গেছে।

কেমন এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা খেলা করতে লাগল গোটা ঘরজুড়ে। রফিক সহসা কোনও কথা বলতে পারল না। সিগারেট ধরিয়ে জানলায় ঠেস দিয়ে দাঁড়ায়। চোখ রাখে বাইরে। গোয়া শহরটা যেন ধীরে ধীরে রোমানিয়া হয়ে উঠছে! 

-মিরচা এলিয়াদ!

অস্ফুটে ঠোঁট নাড়ে রফিক। অনু চোখের জল মুছে তাকায় ওর দিকে। 

-লা ন্যুই বেঙ্গলি!
-কী বলছিস রফি?
-সাল উনিশশো তেত্রিশ। রোমানিয়ান লেখক, দার্শনিক মিরচা এলিয়াদ লিখলেন "লা ন্যুই বেঙ্গলি"। এক বৃটিশ ইঞ্জিনিয়ারের সাথে বাঙালি মেয়ের নিষিদ্ধ প্রেম। শুরু হলো হৈ চৈ। চারদিকে ছি: ছি: রব উঠল মিরচার বিরুদ্ধে।
-ফাক অফ দিস সোশ্যাইটি! এক ছাদের তলায় নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন স্বামী স্ত্রীকে ধর্ষণ করলে এরা সার্টিফিকেট দেয়। অথচ একটু শান্তির খোঁজে ব্যালকনিতে পা রাখলে সেটা অবৈধ হয়ে যায় সবার কাছে। আমি এই সমাজকে স্বীকার করি না। যে যোগ্য আমি তার কাছে চলে যাবো। যে লড়াই ক'রে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করবে তারই হবে যোগ্যতমের উদ্বর্তন...দ্রৌপদী শুধুমাত্র তার।

কথা শেষ ক'রে অনু রফিকের কলার চেপে ধরে, ঠোঁটে ঠোঁট রাখে। এ যেন যোগ্যতমের পুরস্কার। কিছুক্ষণ একে অপরের মধ্যে ডুবে থাকার পর রফিক বলে,

-তুই এবার থেকে কবিতা ট্রাই কর।
-পাগল! ওটা আমার দ্বারা এ-জীবনে হবে না।

অনুমিতার সপ্রতিভ উত্তর। কিন্তু রফিক নাছোড়বান্দা।

-E=mc2...মনে আছে?
-প্লিজ রফি! এখন আর ফিজিক্স কপচাস না।
-থিওরি অফ রিলেটিভিটির সূত্র...
-নট লিসনিং টু ইউ!
-মোদ্দা কথা হলো অণুর মধ্যে কী পরিমাণ শক্তি নিহিত আছে সেটা ধারণাতীত!
-গো টু হেল!
-আরে বাবা তুইই তো অনু। সো ট্রাই টু ব্রিড পোয়েট্রি।
-ওহ, রফি...ইউ মেড মি ক্রেজি!

রফিকের পিঠে আছড়ে পড়ল আলতো ঝাপট। সে, খালি গ্লাস দুটো টেবিলে রাখল। তারপর বোতল হাতে অনুমিতার দিকে তাকাল। অনু বিছানায় কাত হয়ে শুয়ে আছে আলুথালু বেশে কোঁকড়া চুলে। রফিক এক ঝলকের জন্য তসলিমা নাসরিনকে দেখতে পেল! নারীর অধিকারের পক্ষে অনুমিতার সওয়াল-জবাবে বুঁদ হয়ে রইল সে। 


-তোর কাছে প্যারাসিটামল হবে?

অনুমিতা ঠোঁট নাড়ে। রফিক এগিয়ে যায় ডিভানে রাখা ব্যাকপ্যাকের দিকে। 

-ওদিকে কোথায় যাচ্ছিস? 

আলতো হাই তুলে প্রশ্ন করল অনুমিতা।

-প্যারাসিটামল আনতে, ব্যাগে আছে।
-থাক...আর আনতে হবে না। এদিকে আয়।

রফিক খাটের পাশে দাঁড়ালো।

-বল।

অনু রফিকের হাত ধরে বিছানায় টানে। ওর শরীর থেকে একটার পর একটা পোশাক খুলতে থাকে উন্মত্তের মতো। উদম রফিককে ঠেসে ধরে বুকে। ফিসফিস ক'রে বলে,

-ফুটপাথে হা-ঘরে হ্যাংলা, মন তবু জীবন মানে জি-বাংলা! এখনও বুঝলি না...

অনু ঘন ঘন শ্বাস নিতে থাকে, ঝিমোয়। রফিক স্থির থাকতে পারে না। এই মুহূর্তে ওর আঙুলগুলো পেঁয়াজের খোসার মতো পরতে পরতে ছাড়াতে থাকে অনুর শাড়ি, ব্লাউজ, অন্তর্বাস।

-সর্বিট্রেট...তোমায় নতুন ক'রে পাবো ব'লে হারাই ক্ষণে ক্ষণ...তোমায় ছুঁতে চাওয়া এই মন নি:স্তব্ধ অনুক্ষণ...

কথা শেষ হয় না অনুর। নাক ডাকার শব্দ শুনতে পায় রফিক। গভীর থেকে গভীরতর শব্দ। ওর শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল! প্রাণপণে টেনে তোলে অনুকে। অনু এলিয়ে পড়ে। ঠোঁটের কোণে লালা। গা ক্রমশ ঠান্ডা হয়ে আসছে। রফিকের কপাল বেয়ে বিন্দু বিন্দু ঘাম নিচে নেমে আসে। সে অনুর পোশাক ঠিক করতে থাকে।

-অনু! এই অনু...কী হয়েছে তোর? কথা বল...এই অনু! 

সর্বশক্তিতে ওকে ঝাঁকাতে থাকে। পায়ের তালু দু'হাতে ঘষতে থাকে পাগলের মতো। হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়তেই অনুর পা ছেড়ে দেয়। তন্নতন্ন ক'রে খোঁজে গোটা ঘর। শেষে বিছানায় পড়ে থাকা জিনসের পকেট থেকে মোবাইল ফোনটা বের করে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে একশো ডায়াল করতে গিয়েও থমকে যায়। ছুটে যায় বিছানায়। উত্তেজিত রফিক বালিশটা টেনে অনুকে ঠিক ক'রে শোওয়াতে যেতেই ওর বুকের ভেতরটা ধড়াস ক'রে উঠল! বালিশের নিচে ট্যাবলেটের পাতা...খালি! Zolpidem Ambien...! রফিক ধপ ক'রে ব'সে পড়ে মাথায় হাত দিয়ে। ওর কানে বিসর্জনের বাজনা বাজছে! স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে ঢাকের বোল-ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ ঠাকুর যাবে বিসর্জন! রফিক শান্ত হয়ে ব'সে থাকে অনুমিতার হিমশীতল শরীর আঁকড়ে। থেকে থেকে কেঁপে উঠছে ঠোঁটদুটো। বিড়বিড় ক'রে আওড়াতে থাকে,

-ন জায়তে ম্রিয়তে বা কদাচিৎ...নায়ং ভূত্বা ভবিতা বা ন ভূয়: ...ন হন্যতে হন্যমানে ন শরীরে! 

রফিক অনুমিতার চোখে চোখ রাখে। মণিদুটো পাথরের মতো স্থির! পরক্ষণেই টালমাটাল পায়ে উঠে দাঁড়ায়। ওর দৃষ্টি শূন্য। শেষরাতে হোটেলের দরজা খুলে বাইরে বেরোয়। সমুদ্রের গর্জন ছাড়া সমস্ত চরাচর নি:স্তব্ধ! ঘুমন্ত শহরকে পিছনে ফেলে সে রুদ্ধশ্বাসে ছুটতে থাকে বালির ওপর দিয়ে। মিশে যায় নীল নির্জনে।।



ময়ূখ হালদার
রানাঘাট
                         ____________

তিনি আমার শিক্ষক / চন্দন ঘোষ



মাখন সিংহের বাড়ির ইছামতী লাগোয়া সিঁড়ির দুইদিকে দুটো হাতির মাথা আর লম্বা শুঁড় ছিল। ইছামতীর ধারের বাঁধানো চেয়ার বা হাতির মাথার পরে বসে থাকতাম। অলস সকালে বা দুপুরে বসে থাকতাম। মাঝে মাঝে বোটের ব্রিজের পরে দেখতাম ছাতা মাথায় আসছেন এক জন লম্বা মানুষ। দেখে আনন্দে মন নেচে উঠত। কাছে এলে ভুল ভাঙত। নাঃ, মানুষটি তো আমার স্যার নন। যাঃ! ও মা! তার একটু পরেই দেখি সত্যিই স্যার আসছেন বোটের ব্রিজ দিয়ে ঠিক ওই ভাবেই ছাতা মাথায় ধীর গতিতে। কী টেলিপ্যাথি! ছুট্টে যেতাম তাঁর কাছে। যত প্রগলভতা তাঁর সঙ্গেই তো আমার!
#
বয়সে খুব বড়ো ছিলেন না আমার থেকে। কত হবে? এই ৭-৮ বছরের বড়ো হয়ত। বিরাট নিম্ন মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির জ্যেষ্ঠ সন্তান। ফিজিক্সে অনার্স। কিন্তু ভাই বোনদের কথা ভেবে এম এস সি আর করেননি। ইউনিভার্সিটি চিঠি দিয়ে ডেকেছিল। মার শেষ সম্বলটুকু নিয়ে গিয়ে ইউনিভার্সিটির করিডরে দীর্ঘক্ষণ পায়চারি করেও ভর্তি না হয়ে চলে এসেছিলেন। ভাইবোনদের জন্যে এই আত্মত্যাগ ভাইবোনেরা কিন্তু ভোলেনি। তাই তিনি ভাইবোনদের কাছে ও আপামর ছাত্র ছাত্রীদের কাছে আজও ব্যক্তিত্বে উজ্জ্বল।
#
আমাকে পড়াতে এসে ইচ্ছে করে বলতেন, এই অঙ্কটা কিন্তু গার্লস স্কুলে ফার্স্ট গার্ল করে দিয়েছে। তুই পারবি? আমি দ্বিগুণ উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়তাম। হ্যাঁ, তিনি ফিজিক্সের  টিচার হয়েও ফিজিক্স, ম্যাথস, কেমিস্ট্রি তিনটেই পড়াতেন আমাকে। কারণ উনি জানতেন তিনজন টিচার রাখার ক্ষমতা নেই আমার বাবার। সেই জন্যে নিজের স্কুলের শিক্ষক না হয়েও তিনি আজও আমার প্রিয়তম মাস্টারমশাই।
#
বাহাত্তর-তিয়াত্তর। বনগাঁ রাতে বিপজ্জনক। ছয়ঘরিয়ার দিকটায় তো সমাজবিরোধীদের অবাধ বিচরণ। উনি পড়াচ্ছেন। রাত প্রায় দশটা। আমাদের হুঁশ নেই। বাবা বাইরে পায়চারি করছেন, আর মাঝেমাঝে বলছেন, গৌর, অনেক রাত হল। তোমাদের ও দিকটা ভালো না। এবার বাড়ি যাও। স্যার বলছেন, এই তো দাদা, এই অঙ্কটা করিয়েই উঠছি।
#
আজকাল কজন এরকম মাস্টারমশাইএর কথা বলতে পারবে যাঁকে স্মরণ করলে এমনিই মাথা নত হয়ে আসে? প্রণাম স্যার (শ্রী গৌর কাশ্যপী)। দীর্ঘদিন বাঁচুন।
( আমি জানি আপনি এ লেখা পড়বেন না। কারণ আপনি ফেসবুকে নেই। তবু ইচ্ছে হল গঙ্গাজলে গঙ্গাপুজোটা শিক্ষক দিবসেই করে ফেলি)

----------------
চন্দন ঘোষ
বারাসাত

Wednesday, 4 September 2019

গল্প আহ্বান

সাহিত্যের সন্ধানে পত্রিকা আপনাদের জন্য নিয়ে এলো এক সুখবর । যেসকল লেখক এবং সাহিত্যপ্রেমী মানুষ গল্প লিখতে ভালোবাসেন তারা তাদের সেরা গল্পটি আমাদের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিন।আপনার লেখা মনোনীত হলে আমরা সেই লেখাটি প্রকাশ করব আমাদের ব্লগে এবং ডিসেম্বর মাসে আমাদের সাহিত্যের সন্ধানে পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আমরা এই গত তিন মাস যাবৎ পাওয়া গল্পের থেকে সেরা সেরা গল্প বেছে নেবোএবং  তাকে পুরস্কৃত করবো ।

তবে মাথায় রাখবেন  আপনার লেখা টি একমাত্র আমাদের ব্লগে প্রকাশ হবে।

গল্প পাঠাবার আগে কিছু নিয়মাবলী আপনাদের জেনে রাখা দরকার ।গল্প আপনি যেকোন বিষয়ের উপর পাঠাতে পারেন তবে শব্দসংখ্যা ২৫০০ মধ্যে রাখবেন ।গল্প যখন পাঠাবেন তখন অবশ্যই আপনার ছবি, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর দিতে ভুলবেননা।

প্রতি মাসে একটি করে লেখা দিতে পারেন। ডিসেম্বরএ ফাইনাল জানানো হবে কার লেখা সেরার সেরা হলো। লেখা দিলেই সেটি ব্লগে যাবে এমন ব্যাপার নেই। মনোনীত হলেই ব্লগে যাবে। সেখান থেকে তিন মাস পর আমরা সেরার সেরা বেছে তাকে পুরস্কার দেবো।

আপনার গল্পটি আমরা আমাদের ব্লগে প্রকাশ করার পরে সেই লিংকটি আপনাকে ট্যাগ করে দেওয়া হবে ।আপনার গল্পের উপর ফেসবুকে কতগুলি লাইক এবং কমেন্ট পড়ছে সেটিও সেরা সেরা গল্প হওয়ার পিছনে এক যথার্থ গুরুত্ব বহন করবে।
 ডিসেম্বর মাসে আমাদের সাহিত্য সন্ধানে পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সেরার সেরা গল্প লেখককে আমরা বিশেষ পুরস্কারে পুরস্কৃত করবো ।তাই দেরি না করে আপনি আপনার সেরা গল্পটি আমাদের সাহিত্যে সন্ধানের ইমেইল এড্রেসে পাঠিয়ে দিন ।

লেখা পাঠানোর ঠিকানা :-
sahittersondhane@gmail.com

কৌশিক দে
সম্পাদক
'সাহিত্যের সন্ধানে'পত্রিকা